Success Orientation Part-11(অভ্যাসের শক্তি পর্ব -১)

নমস্কার বন্ধুরা!

আশাকরি সকলেই ভালো আছেন কুশল আছেন। আসুন আজকে আমরা পাওয়ার অফ হ্যাবিট্স (অভ্যাসের শক্তি) নিয়ে আলোচনা করা যাক। 

এই হ্যাবিট্স বা অভ্যাস দুনিয়ার ৯৫ শতাংশ মানুষের গড়ে ওঠে না। তাঁরা তৈরি করতে পারে না। অন্যদিকে ৫ শতাংশ মানুষ। এটা তাঁদের জীবনে তৈরি করে নিয়েছে, বলেই তাঁরা সমাজে সফল ব্যক্তি হিসাবে সুপ্রতিষ্ঠিত ও পরিচিতি লাভ করেছে। করে চলছে। 

এখানে একটা বিষয় আসে কমফোর্ট জোন (আরামের জায়গা)। যেকোন হ্যাবিট্স তৈরি করতে হলে প্রথমেই এই কমফোর্ট জোনকে ভাঙতে হয়। এই কমফোর্ট জোনকে যারাই ভেঙে বেরিয়ে গেছে। তারই এক নতুন হ্যাবিট্স তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এবং জীবনে সফল হয়েছে। 

আমাদের বাংলাতে একটা প্রচলিত কথা আছে। শরীরের নাম মহাশয়,যা সহাবী তাই সই। যদিও একে শারীরিক অভ্যাসের বিষয়টিকে জোর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টা অন্য ভাবে দেখলে একে ডিসিপ্লিন অর্থাৎ শৃংখলাবদ্ধ হিসাবেও ব্যক্ত করে থাকে। 

এই যে হ্যাবিট্স বা অভ্যাস এটা রাতারাতি তৈরি হয় না বা গড়ে ওঠে না। যেমন আমরা প্রত্যেকেই শিশু অবস্থায় হাটঁতে শিখি। প্রথম যখন সাইকেল বা মোটর সাইকেল চালাতে শুরু করি। সেই সময় কতবার পড়ে গিয়েছিলাম। তবুও বার বার প্রচেষ্টার ফলে। আজ সাইকেল বা মোটর সাইকেল চালাতে পারদর্শী হয়ে উঠেছি। এখন অন্য ভাবনা চিন্তা করতে করতেও চালানোর কাজে কোনো ডিসট্রাব হয় না। এই দক্ষতা কি এক বারে তৈরি হয়েছে? উত্তর হল না। এই দক্ষতা তৈরি হয়েছে বার বার অনুশীলনের ফলে। 

কোন দক্ষতা অর্জন হয়ে থাকে বার বার অনুশীলনের মাধ্যমেই। যাকে আমরা বলে থাকি চেতন মন থেকে অবচেতন মনে পৌঁছে দেওয়া। যে কোন বিষয় একবার অবচেতন মনে পৌঁছে গেলে। সেই বিষয়টা স্থায়ীরূপে আজীবন আমাদের স্মরণে থেকে যায়। অভ্যাসে পরিণত হয়।  

এখানে পৌঁছে আমাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে। এই হ্যাবিট্স বা অভ্যাস তৈরি করা আমাদের বিজিনেসের জন্য কেন প্রয়োজন। একে কিভাবে আমাদের বিজিনেসে কাজে লাগাব ? 

আমরা জানি। ডাইরেক্ট সেলিং বিজিনেসে যে কাজ গুলো আমাদের করতে হয়।  যেমন লিস্ট তৈরি করা,  হোম মিটিং , বিজিনেস সেমিনার যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো। ফলোআপ করা। এবং সেলস ক্লোজিং করা। সব শেষে ব্যক্তিটিকে হয় উপভোক্তা না হয় টিমে রপান্তরিত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই কাজ গুলো করতে প্রথম দিকে বা শুরুতে আমরা কমবেশি সকলেই খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি না। মনে ভয় কিন্তু আসে। আমরা যারা অনিচ্ছা বা অস্বস্থিবোধ নিয়েও কাজ গুলো করে এসেছি। তাঁদের মধ্যে ধীরে ধীরে দক্ষতা তৈরি হয়েছে। এবং বর্তমানে কাজগুলো সহজ স্বাভাবিক ভাবে করে চলছি। 

বন্ধুরা। এই কাজ গুলো করতে যাদের দক্ষতা তৈরি হয়েছে। তা কিন্তু একদিনে হয় নি। তাঁরা নিজেদের কাজগুলো কমফোর্ট জোন থেকে বার করে। নিয়মিত ভাবে। বার বার অনুশীলন করেছে। বার্তাটি চেতন মন থেকে অবচেতন মনে পৌঁছে গেছে। এবং তার ফলে একদিন বিষয়টা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। 

আমরা অভ্যাস দুই  প্রকার ভাবে তৈরি করতে পারি। এক খারাপ অভ্যাস। যা আমাদের জীবনকে  ধংসের দিকে নিয়ে  যায়। অন্যদিকে ভালো অভ্যাস। যা আমাদের জীবনকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দেয়। চয়েস নিজের নিজের।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ